Recents in Beach

আমাদের শরীর সুস্থ্য রাখতে চিচিঙ্গা খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা




 চিচিঙ্গা খাওয়ার উপকারিতা এবং এর পুষ্টিগুন। চিচিঙ্গা বা স্নেক গোল্ড একটি পুষ্টিকর সবজি যা হজমে সাহায্য করে। ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং  রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়ায়, হৃদরোগ ও কিডনির সাস্থ ভালো রাখে। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও পানি, ভিটামিন এ, সি, ই এবং খনিজ পদার্থ, পটাসিয়াম যা ত্বক ও চুলের জন্য ভালো। মানসিক চাপ কমায় অ্যাসিডিটি দূর করে। উচ্চ ফাইবার জাতীয় জলীয় উপাদানের কারণে এটি হজম শক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট বরা রাখে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এরকম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পটাশিয়াম ও ফাইবারের উপস্থিতির কারণে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদপিন্ডকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। 

রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বৃদ্ধি করে, এটি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়ায়। কফ ও কাশির সমস্যায় এটি উপকারি। শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। কিডনি থেকে বর্জ পদার্থ বের করে দিতে ও কিডনিকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে চিচিঙ্গা।  ভিটামিন এ সি ও ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক ও চুলকে সাস্থ উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। চিচিঙ্গাতে থাকা পটাশিয়াম মানুষিক চাপ কমাতে ও স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ, ই ও সি, ফাইবার, পটাশিয়াম,ফসফরাস,কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন,ফ্যাট চিচিঙ্গা খাওয়া শুরু করলে এই উপাদান গুলোর উপকার পাওয়া যায় যা আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখে। 


এবং এই চিচিঙ্গা খাওয়ার উপকারিতা যেমন আছে ঠিক তেমনি এর অপকারিতা ও আছে।  চিচিঙ্গা ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবারে ভরপুর যা জ্বর কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়াতে ত্বক ও চোখ ভালো রাখতে হজম শক্তি উন্নতে করতে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে। কারণ এতে প্রচুর পানি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে ডায়ারিয়া বা পেটের সমস্যা হতে পারে তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এবং কোন নিদিষ্ট রোগে ভূগলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ক্যালরি কম ফাইবার বেশি থাকায় পেট ভরা রাখে ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। ফাইবার ও উচ্চ জলীয় উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ভিটামিন এ,সি এবং রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়ায়। শরীরকে সংক্রমণের হাত থেকে রহ্মা করে। ভিটামিন ও মিনারেল ত্বককে স্বতেজ রাখে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক,রক্তচাপ ও কোলেষ্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে হৃদ যন্ত্র সুস্থ রাখে। উচ্চ জলীয় উপাদাণের কারণে শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং জ্বরের সময় তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত থেকে ডায়ারিয়া ভুমি ভুমি ভাব বা পেট ব্যাথা হতে পারে। ডায়াবেটিস এর ঔষধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে। যে কোনো সময় শারীরিক অসুস্থতা বা ঔষধ সেবন করলে চিচিঙ্গা খাদ্য তালিকায় যোগ করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ এই চিচিঙ্গার সাথে ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।


অ্যাসিডিটি প্রতিরোধে, চিচিঙ্গা খাওয়ার ফলে গ্যাস্টিকের সমস্যা প্রতিরোধ  হয়ে যায়। তাই যাঁদের অতিরিক্ত গ্যাস অ্যাসিডিটির  সমস্যায় খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যোক্ত করতে পারেন। হজম শক্তি বৃদ্ধিতে চিচিঙ্গা একটি আশ জাতীয় সবজি এবং এই সবজিটি খাওয়ার ফলে হজমের সমস্যা দূরীভূত হয়ে যায়। যে সব শিশুদের হজমের সমস্যা  তারা চিচিঙ্গার তরকারি খেতে পারেন এর ফলে হজমের সমস্যা দূর হয়ে যায়। তারাই যারা হজমের সমস্যায় ভোগেন তারা চিচিঙ্গা খেয়ে একটি চিকিৎসা হিসেবে দড়তে পারেন। 


দাঁত ও হাড়ের জন্য চিচিঙ্গা, চিচিঙ্গাতে নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে যেমন ধরেন ক্যালসিয়াম, ফসফরাস,ম্যাগনেসিয়াম এর সাথে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল রয়েছে যা আমাদের শরীরে হাড় ও দাঁত গঠনে অত্যান্ত কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। চিচিঙ্গার তরকারি খাওয়ার ফলে হার্টের সাস্থ্য ভালো থাকে কেননা চিচিঙ্গাতে এসকরভিক এসিড ক্যারোটিনয়েড কিউকারবিটাসিন বি ইত্যাদি নানা ধরণের উপাদান থাকে। যে গুলো শক্তিশালি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে থাকে। এই উপাদাগুলোই হার্টের মধ্যে রক্ত চলাচল ঠিক রেখে হার্ট সুস্থ রাখতে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। যাদের জন্ডিসের সমস্যা রয়েছে তারা আজ থেকে খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যোগ করুন। এটি জন্ডিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চিচিঙ্গা খাওয়ার ফলে যদি বার্ধক্য আসার আগে বার্ধকের ছাপ পড়া প্রতিরোধ করে। 


ত্বকের সুরহ্মা দেয় ওচুলের সুরহ্মা দেয়, আপনি যদি চুলের সমস্যায় ভোগেন তাহলে চিচিঙ্গার রস হতে পারে একটি আদর্শ উপায়। চিচিঙ্গার চুলের গুড়ায় লাগলে চুল পড়া প্রতিরোধ করে। এবং সেই সাথে চুলের গুড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। 


কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলে আমাদের পেট ঠিক মতো পরিষ্কার হয় না যার ফলে আপনি চাইলে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যোগ করতে পারেন। এটি পেট পরিষ্কার করে কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 


যাদের আলসারের সমস্যা রয়েছে তাদের খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যোগ করা উচিত। এই সবজিটি আলসার প্রতিরোধে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। চিচিঙ্গা খাওয়ার ফলে চিচিঙ্গা প্রতিরোধে থাকে। যাদের ডায়াবেটিস এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে তারা আজ থেকেই খান। খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যেগ করতে পারেন।


লিভারে সমস্যায়, চিচিঙ্গা খাওয়ার ফলে চিচিঙ্গাতে থাকা হেপাটো প্রোটেকটিভ উপাদান লিভারের যাবতীয় সমস্যা সমাধাণে অনেক বড় অবদান রাখে। লিভারের নানা সমস্যায় যারা জরজরিত আছেন তারা খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যোগ করতে পারেন। 


কফ ও কাশি প্রতিরোধে, কফ,কাশু,সর্দি,  টক্সিন বা বাইরে হ্মতিকারক উপাদান আটকে থাকার ফলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। এই সমস্যা দূর করে কফ,কাশি,সর্দি ইত্যাদি প্রতিরোধ করে তোলে।


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে,যারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের রোগী রয়েছেন তাদের খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা যোগ করতে পারেন।


জ্বর প্রতিরোধে, চিচিঙ্গা খাওয়ার ফলে জ্বর প্রতিরোধ হয়ে থাকে। হৃদ স্পন্দন ঠিক রাখতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। চিচিঙ্গাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যেটি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রী রেডিকেলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যার ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়ে  যায়। চিচিঙ্গা অতিরিক্ত খেলে পেট ফুলে যেতে পারে এবং হজমের সমস্যা হতে পারে। ঠান্ডা জাতীয় সবজি হওয়াই এটি কম খাওয়াই ভালো। ঠান্ডার সময় এই সবজিটি বেশি খেলে ডায়ারিয়া হতে পারে। যাদের কিডনিতে পাথর আছে তারা এটি কম খেতে হবে। যেহেতু চিচিঙ্গাতে অভজালেট আছে  তাই এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। চিচিঙ্গাতে ক্যালরি বা প্রোটিনের সংখ্যা খুব কম থাকে যার করণে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে। এটি খাওয়ার ফলে এলার্জির মতো ও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এবং যারা ওজন কমাতে চান তারা নির দিদায় খাদ্য তালিকায় চিচিঙ্গা রাখতে পারেন।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ