আপনি কি জানেন মিষ্টি আলু খাওয়ার পুষ্টি গুণাগুন ও এর উপকারিতা সম্পর্কে। মিষ্টি আলু আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সবজি। এটি সারা দেশে পাওয়া যায় রাঙা, আলু মিষ্টি আলু বিভিন্ন নামে পরিচিত এর মধ্যে পুষ্টি উপকারণ সাদা আলুর তুলনায় অনেক বেশি। একটি আলুতে আছে ১০০ ক্যালরি, ২ গ্রাম প্রোটিন,২২ গ্রাম সেত সার, ৩ গ্রাম আঁশ।এছাড়া একটি মিষ্টি আলুতে প্রতিদিনের চাহিদা ২৬ শতাংশ ভিটামিন, ১২.৬ শতাংশ ভিটামিন বি৬, ২৮ শতাংশ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। মিষ্টি আলু ভিটামিন সি এবং ডি এর প্রধান উৎস। ভিটামিন সি ঠান্ডা প্রতিরোধে এবং ভিটামিন ডি সাস্থ কর হাড়, নাক, ত্বক ও দাঁতের জন্য জরুরি। মিষ্টি আলু আয়রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এটি আমাদের শরীরের শেত কণিকা তৈরি এবং রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বৃদ্ধি সহ নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিষ্টি আলুতে ম্যাঙ্গানিজ ও পটাসিয়াম রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। দ্রমণি, হার্ট,রক্ত,মাংস পেশির সুস্থতায়, নার্ভএর সুষ্ঠ ভাবে কাজ করার জন্য ম্যাগনেসিয়াম প্রয়োজন। মিষ্টি আলুতে প্রাকৃতিক ভাবে চিনি থাকলেও তা খুব ধীরে ধীরে রক্তের সাথে মিশে যায়। এতে শুধু শরীরে শক্তির নিয়মিত যোগানিই পায় না শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখে।
হৃদরোগে মিষ্টি আলুর উপকারিতা রয়েছে, মিষ্টি আলু ভিটামিন ডি এর একটি ভালো উৎস। এটি আমাদের শরীরের ওমো সাইসটিন নামক ক্যামিকেল কমাতে সাহায্য করে। এই ক্যামিকেল হৃদরোগ সহ নানা ধরণের অসুখের কারণ। পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে, কিডনিকে সুরহ্মিত রাখতে ও কার্যহ্মম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
রাত কানা রোগ প্রতিরোধে মিষ্টি আলুর উপকারিতা। রোগীকে বিশেষ করে প্রাণীর খাসির কলিজার সাথে মিষ্টি আলু খাওয়ালে বেশ উপকার পাওয়া যায় যা পুষ্টি বিজ্ঞানীরা বলেছেন।
সুস্থ থাকতে চান বলে সকলেই খাদ্য তালিকা ছোট করতে চান। তালিকাতে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন কিন্তু এটা কি আধো বিজ্ঞান সম্মত। দীর্ঘ দিন যদি ডায়াট থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ থাকে তাহলে শরীরের মারাত্বক হ্মতি হতে পারে। এই আশংকা থেকে অনেকেই খাদ্য তালিকা থেকে বাদ রাখেন আলু। আবার অনেকে বাভেন আলু থেকে হ্মতিকর মিষ্টি আলু। তাই ভুল করেও ছুয়ে দেখেন না কেউ মিষ্টি আলু কিন্তু মিষ্টি আলুর ও বেশ উপকার রয়েছে। হাড় থেকে ডায়াবেটিস, সাস্থ সমস্যায় ঝুঁড়ি নেই এই রাঙ্গা আলুর। যে কোন আলুই পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। তবে মিষ্টি আলু খুবি সাস্থ ভান কিন্তু মিষ্টি আলুতে ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ অনেকটাই কম। এছাড়াও মিষ্টি আলুতে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ থাকে। ভিটামিন এ হলো অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট যা এ্যামিউনিটি বৃদ্ধি করে যা সুস্থ ত্বক ও দৃষ্টি বজায় রাখতে সহায়তা করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে দৈনিক প্রোটিন চাহিদার ৮০% পূরণ করে মিষ্টি আলু। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও বি৬ থাকে যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম এর একটি ভালো উৎস। রক্তচাপ নিয়ন্তণে রাখে, হার্টের সুস্থ থাকার বেপারে সহায়তা করে। এছাড়াও মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার আছে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস ও কলোষ্টেরল এর ঝুঁকি কমায়। তাই আমি বলবো কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ বেশি থাকায় কেউ মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে কেউ মিষ্টি আলু এড়িয়ে যাবেন না। বরং মন বরে খান বিভিন্ন রেসিপিতে দিয়ে খান ওজন নিয়ন্তণে থাকবে আপনিও ভালো থাকবেন।
আসুন এবার জেনে নেই মিষ্টি আলু কিভাবে খাবেন, কিনার সময় লাল ঘাড়ু রং এর মিষ্টি আলু কিনুন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে মিষ্টি আলুর রং কমলা হলুদ বা পার্পল যে কোন রং এরই হোক না কেন যত বেশি ঘাড়ু রং হবে পুষ্টিগুণ তত বেশি হবে। খোশা সারিয়ে মিষ্টি আলু খাবেন না বরং ভালো করে দুয়ে সিদ্ধ করে খোসা সহ মিষ্টি আলু খাবেন। মিষ্টি আলু, সয়াবিন আর ডারচিনির গুড়া দিয়ে সুপ বানিয়ে খান খুব ভালো উপকার পাবেন। তবে খুব বেশি সিদ্ধ করবেন না এতে পুষ্টিগুন নষ্ট হয়ে যায়। রোস্ট, বেক, বয়েল যে ভাবে খুশি খান কিন্তু কখনো বেজে বা চিপর্স বানিয়ে খাবেন না। কাঁচা খান কোনো সমস্যা নেই কিন্তি খোসা সহ খাবেন পুষ্টি গুণাগুণ বেশি পাবেন।

0 মন্তব্যসমূহ