আমাদের সবচেয়ে প্রিয় খাবারের মধ্যে সবচেয়ে প্রথমে আসে মুড়ি। মুড়ি এবং চানাচুর দিয়ে মেখে খাওয়া তার সাথে ছুলা, আলুর চপ, বেগুনী, সিংজ্ঞারা ইত্যাদি দিয়ে মুড়ি খাওয়ার মজাই আলাদা। সকালের ব্রেক ফাস্টে বা বিকালে দিকে অনেকেই আছেন যারা কোনো জামেলা এটা ওটা বানানোর জামেলা না করে মুড়ি খেয়ে নেন। আবার অনেকেই আছেন রাতে ও কোনো রান্না না করে মুড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এখন প্রশ্নটা হলো মুড়ি কী এত বেশি খাওয়া উচিত, বেশি মুড়ি খেলে কী কোনো হ্মতি হয়, নাকি মুড়ি সাস্থ্য সম্মত খাবার,?
বল্হুদিক থেকে মুড়ি অত্যান্ত একটি উপকারি খাবার আবার বল্হু হ্মেতরে মুড়ি কিন্তু অপকার করে থাকে।
আসুন প্রথমে জেনে নেই মুড়ি খাওয়ার উপকার সম্পর্কে। এ্যাসিডিটি সমস্যা সমাধানে মুড়ি একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত মুড়ি খেলে পেটে এসিডের হ্মরণের ভারসাম্য আসে। এ্যাসিডিটি হলে মুড়ির মধ্যে কিছুটা পানি মিসিয়ে এই মুড়ি এবং পানি এক সাথে খেয়ে নিবেন দেখবেন আপনার এ্যাসিডিটি মূহুরতের মধ্যেই কমে যাবে। মুড়িতে ক্যালসিয়াম, আয়রণ,পটাসিয়াম, ভিটামিন এগুলো থাকে বলে মুড়ি খেলে আপনার হাড় মজবুত হবে, দাঁত ভালো থাকবে, মাড়ি ভালো থাকবে। মুড়িতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে। এক কাপ পরিমান মুড়িতে ১১০ ক্যালরি থাকে। অর্থাৎ মুড়ি খেলে আপনার ওজন বাড়বে না। আপনার হালকা খিদে পেয়েছে কিছু করতে হবে না অল্প মুড়ি খেয়ে নিন আপনার খিদেও চলে গেল অথচ বিরাট কিছু পেটও বড়লো না। মুড়িতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে যা হজম শক্তি বাড়ায়। তাই হজমের সমস্যা হলে মুড়ি খান দেখবেন হজমের সমস্যা দূর হয়ে যাবে। মুড়ি হৃদপিন্ড বা হার্ড কে ভালো রাখে। রক্তে হ্মতিকারক কলোষ্টেরল কে বাড়তে দেয় না ফলে হার্ড ভালো থাকে। মুড়ি খেলে দূর্ত এনারজি পাওয়া যায়। আপনার হয়তো কোনো সময় এতটা এনারজি লাগছে না কাজে উৎসাহ লাগছে না কিছু মুড়ি খেয়ে নিন দেখবেন আপনার এনারজি চলে আসছে এবং কাজে উৎসাহ চলে এসেছে। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এবং মিনারেলস থাকার জন্য মুড়ি খেলে রোগ প্রতিরেধ হ্মমতা বেড়ে যায়।ফলে সহজেন কোনো রোগ হয় না।
মুড়ির এত উপকারীতা থাকলেও মুড়ি খাওয়ার কিন্তু বেশ কিছু অপকারীতা ও রয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রায় দিনই মুড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তাদের হ্মেতরে এমনটা হয়।
আসুন এবার জেনে নেই মুড়ি খাওয়ার অপকারীতা গুলো বর্তমানে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আঁশায় ইউরিয়া সার মেশায়। আর ইউরিয়া দিয়ে মুড়ি বাঝলে সেই মুড়ি খাওয়া পেটের জন্য অত্যান্ত উপকারী। যার জন্য ইউরিয়া দিয়ে বাজা মুড়ি না খাওয়াই ভালো। মুড়িতে নুনতা বেশি মাত্রায় থাকে যার জন্য যাদের অতিরিক্ত রক্তচাপ তাদের মুড়ি না খাওয়াই ভালো। এবং যাদের কিডনির সমস্যা আছে তাদের হ্মেতরে মুড়ি এড়িয়ে চলাই ভালো। মুড়ি খেলে ইউরিক এসিড বেড়ে যায়। ফলে যাদের ইউরিক এসিডের সমস্যা আছে তারা কিন্তু মুড়ি খাবেন না। মুড়িতে প্রচুর পরিমানে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে ও কার্বোহাইড্রেট এর পরিমানও বেশি থাকে যার ফলে মুড়ি কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব একটা ভালো না। তাই সবশেষে একটা কথা বলতেই হচ্ছে আপনি মুড়ি খান অবশ্যই খান কিন্তি খুব বেশি পরিমানে মুড়ি খাবেন না। রাতে মুড়ি খেতে হলে কখনো সখনো খান এটা প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করবেন না। কারণ আপনি যদি প্রতিদিন রাতে মুড়ি খেতে থাকেন তা হলে আপনার ওজন কমতে থাকবে। কারণ মুড়ি ওজন কমিয়ে দেয়।এর সঙ্গে আপনার ডায়াবেটিসের সমস্যা উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা ইউনিক এসিডের সমস্যা যদি না ও হয় সেগুলো ও এসে যায়। আর যারা এসব রোগে ভূগছেন তারা কখনোই রাতে মুড়ি খেয়ে শুয়া উচিত না। মুড়ির মতো এত হালকা খাবার রাতে খাওয়া উচিত না বরং রাতে ডাল রুটি খান এতে গ্লিসেমিক ইনডেক্সের পরিমান খুব কম থাকে। প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে ফলে আপনার শরীর ভালো থাকে তাই আপনি সকালে বা সন্দের দিকে মুড়ি খেতে পারেন। কিন্তু রাতে মুড়ি খাবেন না মাঝে মধ্যে খাবেন প্রতিনিয়ত না।

0 মন্তব্যসমূহ