দর্শক আজ আপনাদের এমন একটি সবজির কথা বলবো যার রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুন তার নাম বিট বা বিটরুট। বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে হলে পড়তে হবে পুরো টপিকটি। বিট যেটা যেকোন সুপার সপে এমনকি স্থানিয় বাজার গুলোতে পাওয়া যায়। এটি সব সময় একটি সহজ লভ্য সবজি। কালচে লাল রং এর সবজি এটি। এই সবজিটি দিয়ে অনেকে রান্না করেন অনেক রকম ভাবে অনেকে পছন্দ করেন আবার অনেকে পছন্দ করেন না। বিট দেখতে যত অদ্ভুতই হোক না কেন তা কিন্তু আপনার সাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি।
বিটের পুষ্টিগুন, বিটের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের প্রায়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ ১০০ মিলিলিটার বিট জুস এর মধ্যে রয়েছে ক্যালোরি -২৯ গ্রাম,প্রোটিন-০.৪২ গ্রাম,কার্বোহাইড্রেট -৭.৫০ গ্রাম,সুগার-৫.৪২ গ্রাম,ফাইবার-০.৪০ গ্রাম।
ফোলেট: যা ডি এন এ এবং কোষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আয়রন: যা লোহিত রক্ত কণিকার অক্সিজেন বহন করে।
ম্যাগনেসিয়াম: যা প্রতিরোধ হ্মমতা, হার্ট, পেশী এবং স্নায়ু স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাঙ্গানিজ : যা বিপাক এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ফসফরাস: দাঁত, হাড় এবং কোষের মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
ভিটামিন বি৬ : যা বিপাক এবং লোহিত রক্ত কণিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ক্যালসিয়াম: যা হাড়ের বৃদ্ধি এবং শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ।
তামা : যা কোলাজেন তৈরি করতে হাড় এবং রক্তনালী গুলি বজায় রাখতে এবং ইমিউন ফাংশনকে সমর্থন করে।
জিংক: যা হ্মত নিরাময়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাটিকে সমর্থন করে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে উৎসাহ করে।
বিটরুট স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি, বিটের স্বাস্থ্য উপকারিতা, বেশির ভাগ মানুষ বিটকে সালাত এবং সবজি হিসেবে খান। অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বিটের রস স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম।
আসুন এবার জেনে নেই বিট বা বিটরুটের উপকারিতা,১/ রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে,বিটে রয়েছে অতিমাত্রায় নাইট্রেটস, মুখে থাকা ব্যাকটেরিয়া সংস্পর্শে এসে এই নাইট্রেট মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে।
২/লিভার ভালো থাকে, এখন ফাস্টফুড স্পাইছেতে অভ্যাস্ত জীবনে লিভারের অবস্তা খুবি খারাপ। বিটের জুসে থাকা বেটাইন নামের এক উপাদান ফাংশন কে ভালো করে। বিট হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। বদহজম ছাড়া ও এটি পেটের অন্যান্য রোগ যেমন:ডায়ারিয়া, জন্ডিস প্রভৃতি রোগের হ্মেতরে খুব উপকারি। এটি ফ্যাটি লিভারের সমস্যাকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। লিভার থেকে টক্সিন বেড় করে দেয় যার ফলে লিভারের ফাংশন কে ভালো রাখে।
৩/ ঋতু চক্রের সমস্যা দূর করে, সময়ের আগে ঋতু চক্রান্ত কোন সমস্যা হলে বিটের জুস খান। বিটে থাকা আয়রন নতুন লোহির রক্ত কণিকা গঠনে সাহায্য করে যার ফলে ঋতুচক্রের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৪/ ক্যান্সার, বিটের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি- ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। ক্যান্সারের আক্রান্ত হওযার হাত থেকে বাঁচায়। বিটের এই গাড়ু লাল রং হওয়ার কারণ বেতোসাইন নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এখান থেকে বিটের গাড়ু রংটি আসে যেটা ক্যান্সার সৃষ্টিকারি প্রভাব থেকে কোষকে বিষণ ভাবে সাহায্য করে। তাছাড়া ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে বিটের জুস অনেক উপকারি।
৫/ রক্ত চাপ কমায়, যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভূগছেন তারা দিনে অন্তত ২ গ্লাস বিটের জুস খান। বিটরুটে থাকা উচ্চ মাত্রার নাইট্রেড রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে যার ফলে আপনার উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
৬/ রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়ায়, বিটের মধ্যে হাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যার ফলে শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা কে বাড়িয়ে তোলে।
৭/ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিটের ব্যবহার, যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত বিটের জুস খাওয়া। বিটের জুসে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা বিপাকের সমস্যা দূর করে এবং হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।
৮/ রক্ত স্বল্পতা ও আয়রনের ঘাটতিতে বিট এর ব্যবহার, বিটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা লোহিত রক্ত কণিকার জন্য অত্যান্ত জরুরি উপাদান। যারা রক্ত স্বক্পতায় ভূগছেন বা আয়রনের সমস্যায় ভূগছেন তারা বেশি করে বিটের জুস খাওয়া জরুরি।
৯/ ত্বককে ভালো রাখে, বিটের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি এ জিংক যা ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও বিট ত্বকের বলে রেখা ও উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বকের অন্যান্য সমস্যা যেমন : বূণ দূর করে এছাড়া আপনি যদি উজ্জ্বল ত্বক পেতে চান তাহলে রোজ ২ গ্লাস করে বিটের জুস খান।
১০/ ডিপ্রেশন দূর করে, বিটের মধ্যে বিটেন ও টেকটোফেন নামক উপাদান রয়েছে যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। আপনি যদি ডিপ্রেশনে ভূগেন তাহলে রোজ ১ গ্লাস করে বিটের জুস পান করুন। দেখবেন কিছিটা হলে ও মুক্তি পাবেন।
১১/ হাড়কে মজবুত রাখে, আপনার যদি ক্যালসিয়ামের অভাব থাকে তাহলে রোজ ১ গ্লাস করে বিটের জুস পান করুন। যার ফলে ক্যালসিয়ামের অভাব দূর হবে এবং হাড় মজবুত থাকবে। হাড়ের যে কোন ধরনের সমস্যা দার করতে এটি সাহায্য করে। এখন থেকে বেশি করে বিটরুট খান যার ফলে বয়স বাড়লে হাড়ের সমস্যায় ভূগবেন না।
১২/ দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে,বিটের মধ্যে বিটাকেরটিন এবং ভিটামিন এ থাকে যার ফলে রেটিনার হ্মমতা বাড়ে। রোজ বিট খাওয়ার ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তি বাড়বে এছাড়া চোখের ছানি পড়া রোগ কমায়।
১৩/ এনার্জির ঘাটতি দূর করে, বিটের মধ্যে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত বিটের রস খেলে অক্সিজেন গ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যার ফলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মহ্মমতা বৃদ্ধি পায়। এবং স্বাভাবিক ভাবে শরীলে স্বচলতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত বিটের জুস খেলে শরীলে এনার্জির ঘাটতি পূরণ হবে।
বিটরুট খাওয়ার যেমন উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি এটি খাওয়ার কিছু অপকারিতা ও রয়েছে। যেমন:
১/ প্রস্রাবের বা মলের রং লাল হতে পারে, বিটে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিস সি পাওয়া যায়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা হতে পারে।
২/ চুলকানি, এলার্জি ও ফুসকুড়ি হতে পারে, বিটের মধ্যে নাইট্রেড পাওয়া যায়। যা পেটের মধ্যে বেথা করতে পারে বিট সাস্থ্যকর তবে, আপনি যদি কোন সমস্যা অনুভব করে থাকেন তবে এটি খাওয়া বন্দ করুন। আপনি যদি কোন গুরুতর সমস্যায় ভূগে থাকেন তাহলে বিট খাওয়ার আগে অনুগ্রহ করে এক জন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
বিট কিভাবে খাওয়া যায় কাঁচা অবস্থায়, আপনি বিট কাঁচা কেটে খেতে পারেন। তারপর লেবু হালকা নুন ছিটিয়ে দিন এভাবে খেতে পারেন।
রস, আপনি বিটের রস পান করতে পারেন এবং এটি প্রতিদিন পান করতে পারেন। আপনি খাবারের সাথে সালাত আকারে বিট খেতে পারেন। বিটকে শাক সবজির মতো রান্না করে ও খেতে পারেন।
বিট জুসের রেসেপি,বিট জুসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, ভিটামিন এবং ফাইবার থাকে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ১০০ মিলি লিটার জুসে ক্যালরির পরিমাণ ৩৫ গ্রাম। বিটের সঙ্গে টমেটো, আপেল, গাজর এগুলো সাথে মিশিয়ে জুস বানালে এর পুষ্টিগুন অনেক বেশি বাড়িয়ে নিতে পারেন।
0 মন্তব্যসমূহ