মলা মাছের অনেক পুষ্টিগুন হয়তো আপনারা জেনেছেন কিন্তু আজ আমি আপনাদের কে মলা মাছের নিদিষ্ট কিছু পুষ্টিগুনের কথা বলবো যেটা জানলে সত্যি আশ্চর্য হবেন এবং বুঝতে পারবেন এই মাছটা আমাদের পরিবারে শিশু নারী প্রসূতি কিংবা গর্ভবতী মা বৃদ্ধ প্রত্যেকের জন্য কতটা উপকারি।
তো আসুন প্রথমে জেনে নেই এই মাছের পরিচিতি। দেশের বিভিন্ন স্থানে মলা মাছের পরিচিতি ভিন্ন, অঞ্চল বেঁধে এই লমা মাছ কে মলা, মায়া, মায়াচেলা,মোরার,মৌচি,মৌসি,মৌকা,মৌরলা, মকা, মৌলঙ্গি, মোয়া প্রভৃতি নামে ডাকা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম: Amblypharyngodon mola. ইংরেজি নাম: Mola carplet. অবস্থা : বিপন্ন নয়। বাংলাদেশের খাল - বিল পুকুরে এই মাছটি পূর্বের তুলনায় কমে গেলেও এটি এখনো বাংলাদেশে বিপন্নোগ্য নয়। এর পুষ্টিগুন ও উপকারিতার দিক বিবেচনা করে এখন বাংলাদেশে এই মাছের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। মলা মাছের সাধারণ পুষ্টি গুনাগুনের পাশাপাশি এতে আছে বিভিন্ন দরনের খনিজ উপাদান। চলুন আমরা প্রথমে দেখে নেই প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী মাছে কি পরিমাণ পুষ্টি উপাদান আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম মলা মাছে আমিষ আছে ১৭.৩ গ্রাম, চর্বি আছে ৪.৫ গ্রাম, আর্দ্রতা ৭৫.৬ গ্রাম, ছাই ৩.৫ গ্রাম, আর প্রতি ১০০ গ্রাম মলা মাছে শক্তির পরিমান ৪৪৫ ক্যালরি।
মলা মাছে আমাদের শরীরের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন : আয়রন, জিংঙ্ক, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ কোনটা কি পরিমানে আছে এটি জানার পরে আপনি বুঝতে পারবেন টিভিতে বাচ্চাদের টলার্স টংঙ্গার্স বানানোর জন্য কোউটা জাত যে সব অগার্ত খাওয়ানোর কথা বলা হয় তার চেয়ে মলা মাছ খাওয়ানো কতটা জরুরি। সাথে সাথে এও বুঝতে পারবেন শরীর কে সুস্থ্য রাখার জন্য দামি বড় মাছ খাওয়ার চেয়ে ছোট মাছ খাওয়া অনেক উপকারি।
বন্ধুরা আমি চারটি ছোট মাছ মলা, ধারকিনা, কাচকি, পুঁটি এবং দুটি বড় মাছ রুই এবং ইলিশের মধ্যে এই উপাদানগুলোর মধ্যে তুলনা মূলক চিত্র দেখাবো। চলুন প্রথমে দেখে আসি ১০০ গ্রাম মাছের মধ্যে আয়রন এর পরিমান কোন প্রজাতিতে কতটুকু। ধারকিনা মাছে সর্বোচ্চ ১২ মিলিগ্রাম মলাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫.৭ মিলিগ্রাম আয়রন আছে পুঁটিতে ২.২ মিলিগ্রাম এবং কাচকিতে ২.৮ মিলিগ্রাম আয়রন আছে। অন্যদিকে আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশে আছে ১.৯ মিলিগ্রাম এবং রুই মাছে আছে মাত্র ০.৯৮ মিলিগ্রাম।
আসুন এবার দেখে আসি জিংঙ্ক এর পরিমাণ প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী কোন প্রজাতির মাছে কতটুকু আছে। এখানে ধারকিনাতে সবচেয়ে বেশি ৪ মিলিগ্রাম মলাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩.২ মিলিগ্রাম পুঁটিতে ২.৯ মিলিগ্রাম এবং কাচকিতে ৩.১ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে রুই ও ইলিশে সবচেয়ে কম যথাক্রমে ১ ও ১.২ মিলিগ্রাম।
আসুন এবার জেনে নেই প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী মাছের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম এর মাত্রা গুলো। ধারকিনাতে সবচেয়ে বেশি ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৮৯১ মিলিগ্রাম মলাতে ৮৫৩ মিলিগ্রাম কাচকিতে পুঁটির চেয়ে বেশি ৪৭৬ মিলিগ্রাম এবং পুটিতে ১১০ মিলিগ্রাম অন্যদিকে ইলিশে ২২০ মিলিগ্রাম এবং রুই মাছে ৫১ মিলিগ্রাম।
আসুন এবার একটি অভাক করা তথ্য দেখি আসুন মলাতে যে পরিমান ভিটামিন এ রয়েছে তা এখানে দেখানো পাঁচটি প্রজাতির কোন টিতে এত পরিমানে নেই। প্রতি ১০০ গ্রাম মলাতে ভিটামিন এ আছে ২৫০৩ মাইক্রোগ্রাম অন্যদিকে ধারকিনাতে আছে ৬৬০ মাইক্রোগ্রাম পুঁটিতে আছে ৫৪ এবং কাচকিতে ৭৮ মাইক্রোগ্রাম অন্যদিকে রুই মাছে আছে ১৩ এবং ইলিশে ২০ মাইক্রোগ্রাম।
আসুন এবার জেনে নেই মলা মাছের শরীরে কোন অংশে কতটুকু পরিমান ভিটামিন এ রয়েছে। মলা মাছের শরীরের সামনের দিকে ভিটামিন এ পরিমান ৭% এবং পিছনের দিকে ভিটামিন এ পরিমান ১% পেটের দিকে ভিটামিন এ পরিমান ৩৯% তবে খুবি আশ্চর্যের বিষয় হলো মলা মাছের চোখে ভিটামিন এ পরিমান ৫৩% ব্ন্ধুরা আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন মলা মাছের মাথা খাওয়ার সময় মাথার অংশটা তিতা লাগে। এর চোখে যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ রয়েছে সে কারনেই এর মাথার স্বাধ তিতা হয়। প্রতিটি মলা মাছ এক একটা ভিটামিন এ ক্যাপসুল।
এছাড়াও মলা মাছের আরও কিছু গুণাগুণ রয়েছে। মলা মাছে রয়েছে আয়রন, প্রোটিন,ক্যালসিয়াম যা গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতি মায়েদের জন্য অত্যান্ত উপকারি। এছাড়া বাচ্চাদের হাড়, দাঁত গঠনে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।শিশুদের রাত কানা রোগ প্রতিরোধ করার জন্য অত্যান্ত উপকারি। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মলা মাছ তাদের ব্লাড পেসার কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ফসফরাস ভিটামিন বি২ ফ্যাটি এসিড লাইসিন ও মিথাইনের ভালো উৎস মলা মাছ। যাদের শরীরে এগুলোর ঘার্তি রয়েছে তারা মলা মাছ খেয়ে যেতে পারেন।
0 মন্তব্যসমূহ