ভাটি গাছের অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক ঔষধি গুণাগুণ কী কী?



 ভাটি গাছ আমাদের গ্রাম বাংলার পথ-ঘাটে জন্মানো এক অবহেলিত ছোট গাছ। অনেকে একে আগাছা ভেবে পা দিয়ে মাড়িয়ে চলে যায়। কিন্তু সত্য হলো এই ভাটি গাছের বিতরে লুকিয়ে আছে এমন কিছু ঔষধি শক্তি যা শত বছর ধরে গ্রাম্য চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা ছিল। বিশেষ করে শীতের সময় যখন সর্দি কাশি কফ জমে থাকা টন্সিল বুক ব্যাথা বাত ব্যাথা গ্যাস্টিগ পেটের ইনফেকশন ত্বকের সমস্যা বা দুর্বলতার মতো সমস্যা বাড়তে থাকে তখন ভাটি গাছ প্রাকৃতিক ভাবে শরীরের সুরহ্মা দেয়। এই ছোট গাছটি শুধু শরীরকে সুস্থরাখে না রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা ও বৃদ্ধি করে। তাই আজকের ব্লগিংএ আমি বলবো ভাটি গাছের আশ্চর্য কিছু ঔষধি গুণাগুণ। কিভাবে এটি শরীরকে বিতর থেকে পরিষ্কার করে কোন কোন রোগের এটি দূর্ত আরাম দেয় এবং কিভাবে সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে আপনি সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাবেন। তাই মনোযোগ সহকারে ব্লগিংটি পড়ুন। প্রথমে আসুন জেনে নেই ভাটি গাছের কী কী উপাদান আছে এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্য কী কী উপকার হয়। ভাটি গাছ মূলত গ্রাম বাংলার পথ- ঘাট, জমির পাড়, বাড়ির আশেপাশে অথবা ঝোপঝাড়ে জন্মায়। পাতা গুলো পানের মতো নরম এবং খেতে বেশ তিক্ত, গাছের পাতা ডাটা এমনকি শিকড় পর্যন্ত চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এই গাছের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীরের ভেতরের জমে থাকা টক্সিন দূর্ত বের করে দেয় এবং প্রদাহ কমায়। শরীরে যখন কোন ইনফেকশন হয় তখন শরীর ফুলে উঠে, ব্যাথা হয়,গরম লাগে, দুর্বলতা আসে ভাট গাছ সেই প্রদাহ বা ইনফেকশন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাট পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটো ক্যামিকেল যৌগ রক্ত পরিষ্কার করে, লিভার কে শক্তিশালি করে এবং হজম শক্তি বাড়ায়। তাই সর্দি কাশি থেকে শুরু করে গ্যাস্টিগ, চর্মরোগ, স্বাস কষ্ট, টন্সিল, বাত ব্যাথা, সব কিছুর জন্য এই ভাট পাতা অত্যান্ত কার্যকরি। গ্রাম বাংলায় প্রাচীন কাল থেকেই এই ভাটি গাছকে ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ তাদের যে সমস্ত সমস্যার সমাধান পেয়ে আসছে। শীতের সময় সর্দি, কাশি খুব সাধারণ একটি সমস্যা তখন ভাট পাতা সিদ্ধ করে পানি খেলে কফ দূর্ত পাতলা হয়ে বেড় হয়ে আসে। গলা পরিষ্কার হয় কাশির দকল কমে এবং গলায় খুসখুসে ভাব চলে যায়। যাদের বাড়বার টন্সিল হয়, গলা ব্যাথা বা ফুলা থাকে তারা গরম ভাট পাতার পানি দিয়ে গরগরা করলে অসাধারণ আরাম পাবেন। ভাট পাতার গরম পানি গলার ভেতরের প্রদাহ কমিয়ে গলার রক্ত সন্চালন সঠিক করে ফলে ব্যাথা ও জ্বালা চলে যায়। একই ভাবে যারা হাঁটু বযাথা, কমর ব্যাথা বা বাত জনিত ব্যাথায় ভূগেন তারা ভাটি পাতা বেটে হালকা গরম করে ব্যাথার স্থানে লাগালে ব্যাথা কমে যাবে। ফোলা নেমে যায় আর জমে থাকা বাত বের হয়ে আসে। গ্রামের বয়স্ক মানুষদের কাছে এটি অত্যান্ত ভরসার ঔষধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যাবহৃত হয়ে আসছে। শুধু সর্দি কাশি বা ব্যাথা নয় পেটের সমস্যা ও গ্যাস্টিগের সমস্যায় দারুন কাজ করে। ভাট পাতা ভেজে শাক হিসেবে খেলে হজম শক্তি বাড়ে গ্যাস কমে অম্লতার সমস্যা কমে যায়। পেটের ইনফেকশন, ডায়ারিয়া বা পেটের ব্যাথার হ্মেতরেও ভাট পাতা অত্যান্ত উপকারি। এই ভাট পাতা রক্ত পরিশুধক হিসেবে অসাধারণ। যখন রক্তে টক্সিন জমে যায় তখন ত্বকে চুলকানি, ভূণ,একজিমা, কালো দাগ বা ইনফেকশন দেখা দেয় তখন প্রতিদিন ভাট পাতার সিদ্ধ পানি খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং ত্বক স্বাভাবিক ভাবেই উজ্জ্বল হয়। এমনকি ভাট পাতা হ্মত ও কাটা ছেড়ায় লাগালে ব্যাকটেরিয়া মরে এবং দূর্ত শুকায় এবং নতুন ত্বক গজায়। পুড়োনু দিনের চিকিৎসকেরা প্রায় সব ধরনের হ্মতে ভাট পাতা ব্যবহার করতেন। ভাট গাছ লিভার পরিষ্কার করতেও দারুন ভাবে কাজ করে। লিভার দুর্বল হয়ে গেলে শরীরে ক্লান্তি আসে। পেট ফাঁপা, খুদা মন্দা, ওজন কমে যাওয়া এসব সমস্যা দেখা দেয়। ভাট পাতার রস লিভারের উপর জমে থাকা টক্সিন পরিষ্কার করে যকৃতকে শক্তি দেয় এবং হজম শক্তি নিয়ন্তণে রাখে। মুখের ইনফেকশন দাঁত ব্যাথা ও মাড়ির সমস্যা হলেও ভাট পাতা চিবানো বা ভাট পাতার পানি দিয়ে কুলকুলি করলে উপকার পাওয়া যায়। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল শক্তি মুখের ভিতরের জীবানু ধ্বংস করে এবং দাঁতের ব্যাথা কমায় ও মাড়ির প্রদাহ হ্রাস করে। আবার যাদের ঘণ ঘণ মূর্ত নালির ইনফেকশন হয় সাথে জ্বালা বা অসস্থি হয় তারা ভাট পাতার সিদ্ধ পানি খেলে দূর্ত আরাম পাওয়া যায়। উপরোক্ত সমস্যা গুলো সমাধাণ করতে ভাট পাতা বা ভাটি গাছের পাতা অত্যান্ত কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ গ্রাম বাংলার বিশেষ করে গ্রাম অন্চলের ভাটি পাতাকে ব্যবহার করে উপরোক্ত সমস্যা গুলোকে সমাধান করে আসছে তাই ভাটি পাতা অত্যান্ত একটি কার্যকরি ঔষধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। 


এবার আসুন জেনে নেই ভাটি গাছ খাওয়ার সঠিক নিয়ম গুলো। ভাট পাতা ব্যবহার অনেক সহজ এক মুঠো পাতা দুয়ে ১ লিটার পানিতে সিদ্ধ করে নিয়ে দিনে ১-২ বার পান করলে সর্দি, কাশি, পেটের ইনফেকশন, লিভারের সমস্যা বা দুর্বলতা কমে যায়। যারা ব্যাথায় ভূগেত তারা পাতার পেস্ট তৈরি করে ব্যাথার জায়গায় লাগাতে পারেন।আবার ভাট শাক ভেজে খেলে হজম শক্তি ঠিক থাকে এবং রক্ত পরিষ্কার হয়। তবে কিছু সতর্কতা জরুরি। গর্ভবতী নারীরা ভাট পাতা খাবেন না। খুব ছোট শিশুদের না দেওয়াই ভালো এবং কারো কারো এলার্জি হতে পারে। তাই প্রথমে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত। বড় কোন রোগ থাকলে নিয়নিত ব্যবহারের আগেই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত। 





ভাট গাছ যেমন উপকারি ঠিক তেমনি এর অপকারিতা ও আছে। একজন গর্ভবতী নারীকে কখনোই ভাট গাছ খাওয়ানো উচিত না। যারা ছোট শিশু তাদেরকে না দেওয়াই ভালো এবং যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তারা এক বারেরের বেশি খেলে এলার্জি বেড়ে যেতে পারে। সে জন্য অল্প পরিমাণে খেয়ে অভ্যাস করা ভালো। আপনি যদি নিয়মিত খেতে চান আর যদি আপনার শরীরে বড় ধরনের কোন ইনফেকশন থেকে থাকে বা আপনি যদি সব সময় নিয়মিত ঔষধ সেবন করে থাকেন।যেমন: ডায়াবেটিস হাইপেসার অন্যান্য হৃদরোগের ঔষধ তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে এই ভাটি পাতা খাওয়া শুরু করবেন। তার আগে এই ভাট পাতা খাওয়া আপনার উচিত হবে না। সব মিলিয়ে ভাট গাছ একটি সহজলভ্য সসতা কিন্তু অত্যান্ত কার্যকরি একটি ঔষধি গাছ। যদি সঠিক ভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে এটি শরীর থেকে টক্সিন বেড় করে সর্দি কাশি কমায় ব্যাথা নিরাস করে লিভার পরিষ্কার করে ত্বক উন্নত করে আর রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়িয়ে শরীরকে ভিতর থেকে শক্তিশালি করে। আমাদের ঘড়ের পাশে জন্মানো এই ছোট গাছটি হতে পারে আপনার শীতের সময় একটি প্রাকৃতিক সুরহ্মা।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ