লিভারের সমস্যা ও বাতের ব্যাথা দূর করতে চালতা ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা




বাজারে দেখেও দেখেন না বণে বাগানে জন্মানো সসতার এই ফল সর্বরোগের নিরামক। আপনি কি জানেন চালতা ফল কি কি রোগ সারাতে পারে? চালতার গুনাগুন না জানার ফলেই হয়তো এই ফল বাজারে দেখলেও অনেকে পাঁশ কাটিয়ে চলে যায়। চালতের এত গুন আপনারা জানলে আপনারা চমকে যাবেন। তাই আজকে আপনাদের সামনে তুলে দরবো এই চালতা খেলে কী কী উপকারে আসে। চালতা দেখতে একটা গোল ধরনের সবজি বা ফল বলতে পার, এটা সবুজ রং এর হয় তবে একটু শক্ত হয়। কাঁটার জামেলার জন্য অনেকে এটি  খাই না। চালতা জ্বর সর্দি কাশি বদগহম এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। লিভার ও হার্টের জন্য উপকারি, কলোষ্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ভিটামিন সি থাকার কারণে এটি স্কার্ভি প্রতিরোধ করে। চালতায় থাকা অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং রক্তসঞ্চালন সঠিক রাখে। ঠান্ডা লেগে জ্বর বা কাশি হলে চালতার রস খেলে উপকার পাওয়া যায়। কফ ও সর্দির জন্য গাছের ছালের গুড়াও ব্যবহার করা হয়। বদহজম কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মুখের রুচি বাড়াতে চালতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলোষ্টেরল নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের চালতা ফল খাওয়া খুবই দরকার। এটি লিভারের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে এবং হার্টের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। যাদের হার্টের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই সিজনে অল্প কিছু হলেও চালতা খাওয়ার চেষ্টা করবেন। চালতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি- অক্সিডেন্ট  থাকে যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে ভিটামিন সি থাকায় স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বৃদ্ধি করে।

চুলের জন্য ও ত্বকের জন্য চালতা খাওয়া খুবি উপকারি। চালতা রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে যার ফলে আমাদের পুরো শরীর সতেজ থাকে এবং হার্ট ভালো থাকে। কচি চালতের রস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে ভার্তের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। 

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক চালতে ফলে কি কি ভিটামিন পাওয়া যায়। এর পুষ্টিগুন যানলে আপনারা অভাক হয়ে যাবেন এতে আছে ক্যালসিয়াম শর্করা ভিটাক্যারটিন ভিটামিন বি সি থায়াবিন রিবোফ্লাভিন ও আমিষের মতো নানা রকম স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে চালতার মধ্যে।

এবার বলবো চালতা কোন ধরনের ফল এটাকে কেন ফল বলা হয়। কারণ এর যে অংশটি খাওয়া হয় সেটি আসলে ফুলের গর্ভাশয় নয় বরং ফলের অন্যান্য অংশ পরিপুষ্ট হয়ে ফলে রুপান্তরিত হয়। অর্থাৎ শুধু মাত্র গর্ভাশয়ের ফলে পরিণত হলে তাঁকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন: আম বা কাঁঠাল কিন্তু চালতা ফলের হ্মেতরে ফুলের বৃদ্ধি ও অন্যান্য অংশ পরিপুষ্ট হয়ে ফলে পরিণত হয় তাই এটি একটি অপ্রকৃত ফল। এই চালতের বৈজ্ঞানিক নাম ডিলেনিয়া এন্ডিকা এর ইংরেজি নাম হলো এলিফেড এপেল।

এবার জানুন চালতের কোন অংশ খাওয়া হয়, চালতের যে অংশটা আমরা খাই তা হলো মাংসা বৃদ্ধি বা মাংসাল বৃত্তাংশ। বিতরে যে আটালো অংশ আছে সেটা কিন্তু আমরা খাই না সেটা ফেলে দিতে হয় তাই এই চালতে খাওয়ার সময় অবশ্যই চালতার খোশা সারিয়ে খেতে হয় কারণ হচ্ছে খোশা গুলো একটু তেতু চাইপের হয় তাই খুশা ফেলে দিয়ে চালতা খাওয়া উচিত। কচি চালতা খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। 

চালতার ব্যাবহার সম্পর্কে জানতে গেলে আমরা অনেকে অনেক রকম ভাবে চালতা খাই।যেমন : চাটনি আঁচার টক ডাল রান্নায় ইত্যাদি নানা ভাবে আমরা চালতা খেতে পারি আর কাঁচা চালতার রসও কিন্তু আমাদের শরীরের জন্য উপকারি। এগুলো বাংলাদেশ সহ দহ্মিণ পূর্ব এশিয়ার সকল অঞ্চলে প্রচুর চালতা গাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও বণে জঙ্গলে প্রায় সকল জায়গায় চালতা গাছ জন্মে থাকে। যে কোন ধরণের বদহজম জনিত সমস্যা যদি দেখা দেয় তাহলে চালতা খেলে অনেক উপকার আসে। চালতা অন্তের সংক্রামণ অর্শ্বরোগ কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়ারিয়া নিরাময়ে সাহায্য করে। 

ডায়াবেটিস রোগিদের জন্য চালতা খাওয়া খুব উপকারি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে যাদের ইউরিক এসিড আছে তারা নিরবয়ে চালতা খেতে পারেন। যারা বাতের ব্যাথায় ভুগছেন তারা নিয়মিত চালতার রস খান দেখবেন বাতের ব্যাথা অনেকটা কমে গেছে এবং যারা রক্ত আমাশায় ভুগছেন তারাও চালতার রস পানির সাথে মিশিয়ে খাবেন দেখবেন অনেক উপকার পাবেন। চালতা পাতার রসও কিন্তু রক্ত আমাশা ও বাতের ব্যাথার হ্মেতরে খাওয়া যায়। কিডনি ভালো রাখতেও চালতা ভালো কাজ করে তাই চালতা পাতা ঠান্ডা ও কাশির জন্য যেমন উপকারি তেমনি এই গাছের কস বা আটা ডায়াবেটিস রোগের জন্য অনেক উপকারি। ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ের ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে এই চালতা ফলে তাই প্রতিদিন ১০০ গ্রাম চালতা ফল খাওয়া প্রত্যেকের খাওয়া উচিত। 


প্রত্যেকের ফলেরই যেমন উপকারিতা আছে ঠিক তেমনি করে সকল ফলেরই কিছু উপকারিতা ও রয়েছে। তেমনি চালতা ফলের ও উপকারিতার পাশাপাশি কিছু উপকারিতাও রয়েছে আসুন এখন জেনে নেওয়া যাক চালতা ফলের অপকারিতা গুলো। বিষেসঙ্গদের মতে চালতার কোন হ্মতিকর দিক খুজে পািয়া যায়নি। এটি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত একটি উপকারি ফল। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ সেবন বা কোন নিদিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থায় এটি ব্যবহারের হ্মেতরে সতর্ক থাকা উচিত। তাই বলা যায় এই চালতা একটি উপকারি ফল তবে এর হ্মতিকর দিক সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবোও কোন ভেষজ চিকিৎসায় অতিরিক্ত কোন কিছু সেবন না করা বা কোন  নির্দিষ্ট রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত। আবার অনেকের মনে প্রশ্ন জানে গর্ভ অবস্থায় চালতা ফল কি খাওয়া উচিত?  গর্ভাবস্থায় চালতা ফল খাওয়া খুবি উপকারি। গর্ভাবস্থায়  চালতা ফল খেলে শরীরে রক্তসঞ্চালন ঠিক থাকে অতএব সুস্থ্য রাখে শরীলকে। চালতা ফলে যেহেতু রয়েছে ভিটামিন সি তাই এটি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে তাই গর্ভাবস্থায় স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ হয় চালতা ফল খাওয়ার ফলে। গর্ভাবস্থায় যদি পেটে ব্যাথা হয় তাহলে চালতা ফল খেলে পেটের ব্যাথা অনেকটাই কমে যায়।





একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ