তরমুজ খাওয়ার কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা




তরমুজ একটি সুসাধু ও রসালু ফল। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও বি২ এবং বি। কিন্তু যার জন্য তরমুজের উপকারিতা আরও বেশি হয়ে উঠে তা হলো লাইকোপেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যার ফলে তরমুজের রং এতটা লাল হয়ে থাকে। তরমুজে উপস্থিত এই লাইকোপেন বিভিন্ন পরীহ্মার মাধ্যমে অতি প্রায়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদাব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তরমুজ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে বেশ কার্যকর। যদিও অন্যান্য অনেক ফলের মতো এতে ফাইবারের পরিমাণ অতটা নেই কিন্তু এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবি কম যা শরীরে চর্বী জমতে দেয় না এবং জলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।


দর্শক আসুন এবার বিস্তারিত ভাবে তরমুজের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

১/ হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে তরমুজ, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীহ্মায় প্রমাণিত হয়েছে যে তরমুজের উপকারিতা এতটাই বেশি যে প্রতিদিন এক টুকরো করে তরমুজ খেলে হ্মতিকারক কোলেষ্টেরল কে দূরে রাখা যায়। যা হার্ট সংক্রান্ত রোগ কে প্রতিহত করতে পারে। তরমুজে উপস্থিত ইসটোলিন হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খুবি উপকারি। কারণ মহিলাদের মনোপোজ হওয়ার পর মাঝে মাঝে ধমনি শক্ত হয়ে যায় যা ব্যাথার সৃষ্টি করে। সেটি রোধ করতে কাজ করে এই সিস্টোলিন।


২/ হজম হ্মমতা বাড়াতে, তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জল যা হজম হ্মমতা বাড়িয়ে তুলে এছাড়াও এতে রয়েছে ফাইবার। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে খাবার হজম করে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। 


৩/ ওজন কমানোর জন্য, তরমুজের সবচেয়ে উপকারি দিক হলো এটি ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকরি বলে যানা যায় কারণ তরমুজে জলের পরিমাণ খুবি উচ্চ। এর ফলে বিপাকীয়া সঠিক থাকে এবং শরীল নানা ধরনের বিষকীয়া ও ফ্যাট থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে। যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। একটি তরমুজের বড় টুকরোই ৮৬ ক্যালরি, ২২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ১ গ্রামের থেকে ও কম ফ্যাট থাকে। এবং কোন রকম কোলেষ্টেরল থাকে না। এটি আপনার শরীলের প্রতিদিনের ফাইবারের প্রয়োজনীয়তা কে ৫% কমিয়ে দেয় যা শরীলের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। 


৪/ শরীলকে আদ্র রাখে, তরমুজে রয়েছে ৯০% জল যা শরীলকে বেশ আদ্র রাখে। তাই চা বা কফি খাওয়ার তুলনায় তরমুজ খাওয়ার উপকারিতা বেশি। এটি প্রস্রাবের পরিমাণ ঠিক রাখে ফলে কিডনিতে চাপ পরে না।


৫/ ক্যান্সার রোধ করতে, তরমুজে থাকা লাইকোপেন ক্যান্সারের প্রবণতা কে অনেকটাই কমিয়ে আনে। এই লাইকোপেনের জন্যই তরমুজের রং  গাড়ু লাল হয় এবং এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর যা ক্যান্সার রোধ করে। দুই কাপ তরমুজে রয়েছে ২০ গ্রাম লাইকোপেন যা নানা  ধরনের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ায় করতে সাহায্য করে। পোটেস্ট ক্যান্সারের জন্য লাইকোপেন কেমো থেরাপির মতো কাজ করে। যা সহজেই ক্যান্সারের কোষ গুলোকে ধ্বংস করে দেয় বলে জানা গেছে। তবে এই বেপারে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 


৬/ মাংস পেশি ঠিক রাখতে, বিয়াম বা জিম করার পর মাংস পেশি যখন ব্যাথা করে  তখন ইলেকট্রোলাইট ও এমাইনো এসিডে ভরপুর সিস্টোলিন আরাম দায়ক একটি ঔষধ হিসেবে কাজ করে। তরমুজে রয়েছে এই সিস্টোলিন যা মাংস পেশির ক্লান্তি দূর করতে সহ্মম। তাই তরমুজ খেলে শরীলে জমে যাওয়া ল্যাকটিক এসিড দূর হয় ও মাংস পেশি সচল রাখে তাই তরমুজের উপকারিতা পাওয়ার জন্য এর রস পান করুন। 


৭/ রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বৃদ্ধি করে, তরমুজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা শরীলের রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা বাড়িয়ে তুলে। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬ যা অ্যান্টিবডি গঠন করতে সাহায্য করে। এর ফলে শ্বেত রক্ত কণিকা সঠিক ভাবে তৈরি হয়। তরমুজে থাকা ভিটামিন এ শরীলকে নানা ধরনের সংক্রামক থেকে দূরে রাখে। 


৮/ হাঁপানির হ্মেতরে, তরমুজে উপস্থিত লাইকোপেন নামক অ্যান্টি - অক্সিডেন্ট শরীলে নানা ধরনের সমস্যা যেমন: সর্দি,ঠান্ডা লাগা ও জ্বর প্রতিরোধ করে। এমনকি বয়স্কদের হ্মেতরে ও তরমুজ হাঁপানির সমস্যা কমাতে পারে। 


৯/ কিডনির সুরহ্মা, যদিও তরমুজে পটাশিয়াম রয়েছে কিন্তু অন্যান্য ফলের তুলনায় এতে পটাশিয়ামের মাত্রা খুব কম। যার ফলে কিডনির সমস্যায় ভূগা মানুষের জন্য এটা বেশ কার্যকরি।  কিডনির সমস্যা থাকলে কম পটাশিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া উচিত। এ হ্মেতরে আপনার খাদ্য তালিকায় অনায়াশে তরমুজ যোগ করতে পারেন। 


১০/ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, তরমুজে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে সিস্টোলিন যা উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে আনতে দারুন কার্যকরি।


১১/ চোখের জন্য, তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ যা চোখের জন্য খুবি ভালো। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে এবং বয়স কালে দূর্ত চোখের ছানি পড়া রূদ করে।যার ফলে আপনি অনেক দিন পর্যন্ত ভালো দৃষ্টির অধিকারি হতে পারেন নিয়মিত তরমুজ খেলে।


১২/ডায়াবেটিস এর জন্য,ডায়াবেটিস কমাতে তরমুজের ভূমিকা আছে। আসলে তরমুজে শর্করার পরিমাণ কম থাকে এবং তরমুজে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর সাথে অ্যান্টি ডায়াবেটিস উপাদান। কিন্তু এই বেপারে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন। 


১৩/ গরমে স্টোক আটকাতে, শরীলের তাপ নিয়ন্তণ করে ও পচন্ড তিষ্ণা মিঠায় তরমুজ। যার ফলে শরীলে জলের পরিমাণ ঠিক থাকে এতে করে গরমে স্টোক হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। 


১৩/ হাড়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন সি খুবি প্রয়োজন। কারণ এটি হাড়ের ছোট খাটো সমস্যা দূর করতে পারে। তরমুজ খাওয়ার ফলে হাড়ের চির ধরা রোধ করা যায়। এছাড়াও হাড়ের বৃদ্ধিতেও এর প্রভাব আছে বলে যানা যায়। 


১৫/ মাড়ির জন্য, তরমুজে থাকা ভিটামিন সি মাড়ির জন্য খুবি ভালো। ভিটামিন সি এর অভাবে মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যায়। তরমুজ নিয়মিত খেলে এটি সহজেই দূর করা যায়। মুখের বিতরের সংক্রামণ ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে তরমুজ। 


১৬/ নষ্ট হওয়া কোষ আটকায়, লাইকোপেন সমৃদ্ধ তরমুজ শরীলের কোষ গুলুকে নষ্ট হওয়া থেকে রহ্মা করে। 


১৭/ গর্ভবতী মহিলাদের জন্য তরমুজ, গর্ভাবস্থার সময় বুকে জালা ভাব হওয়া খুব সাধারণ। এছাড়াও সকালে উঠে গর্ভবতী মহিলাদের অসুস্থ বোধ করতে ও দেখা যায়। এই সব কিছু তরমুজ খেলে অনেকটা রোধ করা যায়।এমনকি গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মাংস পেশির ব্যাথা হওয়া রোধ করতে পারে এই তরমুজ। 


১৮/ ফোলা ভাব দূর করে, তরমুজে লাইকোপেন ছাড়াও রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। যা শরীলের সংক্রামণ ও ফোলা ভাব দূর করতে সাহায্য করে। 


১৯/ শক্তি বাড়ায়, তরমুজ হলো ভওটামিন বি তে ভরপুর।যা শরীলে শক্তি যোগায়। তরমুজে কম মাত্রায় ক্যালরি থাকার ফলে এটি শরীলে যথার্থ পুষ্টি প্রদান করে। শরীলে শক্তি যোগায় ফলে এটি আপনাকে সারাদিন তরতাজা রাখতে সহযোগিতা করে। এছাড়া তরমুজে থাকা পটাশিয়াম শরীলে ইলেকটোরাইটের কাজ করে।







একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ